১৭ বছরেও সংস্কার হয়নি ঈদমনি-লালব্রীজ সড়ক, চরম দুর্ভোগে দেড় হাজার মানুষ
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদমনি লালব্রীজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাদের আলী ইবতেদায়ী জুনিয়র দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়েও সড়কটির অবস্থা নাজুক থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে থাকায় পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় অনেক সময় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পথচারীদেরও কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেশি
সড়কটির পাশে কাদের আলী ইবতেদায়ী জুনিয়র দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বর্ষার দিনে কাদা-পানি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। আবার সড়কের গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জরুরি রোগী পরিবহনেও বিড়ম্বনা
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। কোনো বাসিন্দা অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। কাদা ও খানাখন্দের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগে।
বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে সড়কের গর্ত এড়িয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
১৭ বছরেও স্থায়ী সমাধান হয়নি
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন হলেও স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সাময়িকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।
তাদের ভাষ্য, বর্ষার পানি ও যানবাহনের চাপের কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই শুধু গর্ত ভরাট নয়, সড়কটির প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মানসম্মতভাবে পাকা সংস্কার করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে একটি টেকসই সংস্কার প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কটি সংস্কার করা হলে প্রায় দেড় হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ হবে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।
এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা ঈদমনি-লালব্রীজ সড়কটি এবার স্থায়ীভাবে সংস্কারের আওতায় এনে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
সীমান্তে চোখ রাখবে ড্রোন, প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারিতে বিজিবি
- ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সিলেট প্রতিনিধি
বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা, ভোগান্তিতে নগরবাসী
- ১৮ আগস্ট, ২০২৬
- বাংলা চ্যানেল ডেস্ক
মিজানুর রহমান আজহারীর হাসানাহ ফাউন্ডেশনে ২২ পদে চাকরির সুযোগ
- ২৮ জুলাই, ২০২৫
- বাংলা চ্যানেল ডেস্ক
তিস্তা মহাপরিকল্পনা এ বছরই চূড়ান্ত হবে: রিজওয়ানা হাসান
- ১৫ জুলাই, ২০২৫
- বাংলা চ্যানেল ডেস্ক
আকাশপথে কক্সবাজারকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে
- ০৭ অক্টোবর, ২০২১
- বাংলা চ্যানেল