চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: প্রেমিকা ও চার ভাইসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


hudhudbd.com
আব্দুচ্ছালাম মাতামুহুরি
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় এক নারী, তার চার ভাই, এক ভাবি ও এক নিকটাত্মীয়কে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত জিসানের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নুরুল হোসেনের মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে। অন্য আসামিরা হলেন—রাজিয়ার চার ভাই নাজেম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, প্রবাসী মোহাম্মদ জকরিয়া ও মিনহাজ উদ্দিন, নাজেম উদ্দিনের স্ত্রী এবং তাদের নিকটাত্মীয় এ কে তারেক।
অপহরণের অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে রাজিয়ার ভাই মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময় জিসানকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়ার কাকারা মাঝেরফাঁড়ি স্টেশন এলাকা থেকে অস্ত্রধারীরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে জিসানকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
কবির টাওয়ারে নির্যাতনের অভিযোগ
বাদীর অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় প্রবাসী জকরিয়ার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
জিসানকে উদ্ধারের জন্য স্বজনেরা ওই ভবনে গেলে কেয়ারটেকার দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রাত ২টার দিকে চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশ ভবনে প্রবেশ করে নির্যাতনের আলামত ও মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পায় বলে মামলার বাদী দাবি করেছেন।
এরপর রাত পৌনে ৩টার দিকে চকরিয়া থানার ওসির কাছে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে খবর আসে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে আছে।
পরে পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৩টার দিকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করেন।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে একাধিক বিষয়
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, জিসান হত্যার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. অহিদুর রহমান (পিপিএম) বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জিসানের সঙ্গে আসামিদের পরিবারের পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এদিকে ঘটনার দুই দিন পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি। তিনি জিসান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার