মোকতার স্যারের নতুন অর্জনে আমরা গর্বিত, স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন সেই ভালোবাসার বাড়ি


hudhudbd.com
মুসলিম আজাদ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন জীবনের কত শত স্মৃতি, কত আনন্দ-বেদনা, কত হাসি-আড্ডা আর ভালোবাসার মুহূর্ত যে আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সেই সোনালি দিনগুলোতে যেসব পরিবারের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যাঁদের স্নেহ, মমতা ও আন্তরিকতা আমাদের আপনজনের অভাব ভুলিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিল আমাদের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. মো. মোকতার আহমেদ স্যারের পরিবার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কত অসময়ে, কত অপ্রস্তুত মুহূর্তে আমরা স্যারের বাসায় গিয়েছি, কত গল্প করেছি, কত আড্ডায় মেতে উঠেছি—তার হিসাব হয়তো আজ আর কারও কাছে নেই। কিন্তু সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। স্যারের পরিবারের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম আপন করে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের কাছে ছিল এক অনন্য প্রাপ্তি।

বিশেষ করে স্যারের সম্মানিত স্ত্রী, আমাদের সবার প্রিয় বড় আপা—তিনি যে কতবার আমাদের স্নেহের পরশে আপন করে নিয়েছেন, কতবার মমতার বন্ধনে আগলে রেখেছেন, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি শুধু স্যারের পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন না; আমাদের অনেকের কাছেই ছিলেন পরিবারের একজন আপন অভিভাবক। তাঁর স্নেহমাখা আচরণ, আন্তরিক আতিথেয়তা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্মরণীয় করে তুলেছিল।

স্যারের বাসার ডাইনিং টেবিলটিও ছিল আমাদের কাছে এক বিশেষ ভালোবাসার ঠিকানা—সুস্বাদু, মজাদার ও তৃপ্তিদায়ক খাবারের এক নির্ভরতার জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের কত দিন যে সেই টেবিলে বসে তৃপ্তিভরে খাবার খেয়েছি, কতবার যে আপার মমতাভরা আতিথেয়তায় ক্ষুধার পাশাপাশি মনও পরিতৃপ্ত হয়েছে, তার হিসাব আজ আর মনে নেই। আমাদের কাছে সেই ডাইনিং টেবিল শুধু খাবার পরিবেশনের স্থান ছিল না; সেটি ছিল স্নেহ, মায়া, আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার এক নীরব প্রতীক। খাবারের স্বাদের সঙ্গে মিশে থাকত পারিবারিক উষ্ণতা, আর প্রতিটি আন্তরিক আপ্যায়নে অনুভব করতাম—আমরা এখানে অতিথি নই, আমরা এই পরিবারেরই একজন।

স্যার ও আপা আমাদের ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন; আবার প্রয়োজনের সময় শাসনও করতেন। তাঁদের সেই শাসনের মধ্যেও ছিল মমতা, ছিল আমাদের ভালো চাওয়ার আন্তরিকতা। ভুল করলে বুঝিয়ে দিতেন, প্রয়োজন হলে কঠোর হতেন, আবার সেই কঠোরতার আড়ালেই লুকিয়ে থাকত গভীর স্নেহ ও দায়িত্ববোধ। আজ বুঝতে পারি, সেই শাসন ছিল না দূরত্ব তৈরির জন্য; বরং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য, জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলার জন্য। আপনজনের শাসন যে কখনো কখনো ভালোবাসারই অন্য নাম, তাঁদের কাছ থেকেই আমরা তা শিখেছি।

সবচেয়ে বড় কথা, স্যারের বাসাটি আমাদের কাছে কখনোই অন্য কারও বাড়ি বলে মনে হয়নি। মনে হতো, এ যেন আমাদেরই বাড়ি—যেখানে ইচ্ছেমতো যাওয়া যায়, নির্দ্বিধায় বসা যায়, মনের কথা বলা যায়, হাসি-আড্ডায় সময় কাটানো যায়, আবার ক্ষুধা লাগলে ডাইনিং টেবিলে বসে আপনজনের মতো খাবারও খাওয়া যায়। সেখানে আমাদের জন্য ছিল অবাধ আন্তরিকতা, নির্ভরতার আশ্রয় আর নিঃসংকোচে আপন হয়ে থাকার এক অপূর্ব সুযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের ব্যস্ততা, ক্লান্তি কিংবা মন খারাপের মুহূর্তে এমন একটি বাড়ি থাকা যে কত বড় প্রাপ্তি, তা হয়তো তখন পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। আজ স্মৃতির জানালায় ফিরে তাকালে বুঝি, এমন আশ্রয় সবার ভাগ্যে জোটে না।

স্যার ও আপা ছিলেন সত্যিকার অর্থেই মানবিক হৃদয়ের মানুষ। মানুষের প্রতি মমতা, ছোটদের প্রতি স্নেহ, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং সম্পর্ককে আন্তরিকতার বন্ধনে বেঁধে রাখার যে অসাধারণ গুণ তাঁদের মধ্যে দেখেছি, তা আমাদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও যে মানুষকে আপন করে নেওয়া যায়, নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসা যায়, নিজের সন্তানের মতো শাসন করা যায়—স্যার ও আপার আচরণে আমরা তার বাস্তব উদাহরণ পেয়েছি।

অথচ আজ পেছনে ফিরে তাকালে বিস্মিত হই—কবে যে আমরা তাঁদের এত আপন হয়ে উঠেছিলাম, কখন যে তাঁরা আমাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো করে গ্রহণ করেছিলেন, তা নিজেরাও জানি না। তাঁদের ঘরের দরজা আমাদের জন্য সব সময় উন্মুক্ত ছিল। সেখানে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল, ছিল না দূরত্বের বেড়াজাল; ছিল শুধু অকৃত্রিম ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর আপনজনের মতো কাছে টেনে নেওয়ার এক অসাধারণ সৌন্দর্য।

সময়ের স্রোতে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সেই দিনগুলো অনেক দূরে চলে গেছে। হয়তো আগের মতো প্রতিদিন দেখা হয় না, আগের মতো আড্ডা বসে না, সেই ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার সুযোগও আর নিয়মিত হয় না। কিন্তু কিছু সম্পর্ক দূরত্বে ফিকে হয় না, কিছু ভালোবাসা সময়ের কাছে হার মানে না। স্যারের বাড়ির সেই আপন পরিবেশ, আপার স্নেহমাখা আতিথেয়তা, স্যারের মমতাপূর্ণ শাসন আর আমাদের নির্ভার দিনগুলোর স্মৃতি আজও হৃদয়ের গভীরে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

জীবনের পথে সময় বদলায়, মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে, সম্পর্কের প্রকাশও কখনো কখনো দূরত্বের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না, কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। জীবনের বহু অর্জন ও ব্যস্ততার ভিড়ে এসব স্মৃতিই আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি হলো এমন কিছু মানুষ, যাঁদের কাছে গেলে আজও মনে হয়, ‘আমি আমার নিজের বাড়িতে এসেছি।’

আজ সেই শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. মো. মোকতার আহমেদ স্যার কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর – এ সংবাদ আমাদের হৃদয়কে আনন্দ, গর্ব ও গভীর ভালো লাগায় পরিপূর্ণ করেছে। আমাদের কাছে এটি কেবল একজন সম্মানিত শিক্ষকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির সংবাদ নয়; এটি এমন একজন প্রিয় অভিভাবকের সম্মানজনক অগ্রযাত্রা, যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জীবনের এক মূল্যবান অধ্যায়, অসংখ্য স্মৃতি এবং গভীর শ্রদ্ধা।

স্যার, আপনার এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিতে জানাই হৃদয়ের গভীর থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও অফুরন্ত শুভকামনা। আপনার মেধা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা, গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চায় আরও সমৃদ্ধ হোক। আপনার হাত ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক আলোকিত মানুষ গড়ার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান; যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ অর্জন করবে না, অর্জন করবে নৈতিকতা, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দেশ গড়ার প্রেরণা।

আমরা বিশ্বাস করি, আপনার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গৌরবময় অবস্থান তৈরি করবে। আপনার প্রতিটি উদ্যোগ সফল হোক, প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক এবং আপনার কর্মময় জীবন মানুষের কল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

স্যার, আপনার জন্য আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আজও সেই আগের মতোই অটুট। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতির পাতায় আপনি যেমন আমাদের প্রিয় শিক্ষক ও অভিভাবক হয়ে আছেন, তেমনি আপনার এই নতুন অর্জন আমাদেরও আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। আপনার সাফল্য আমাদের কাছে নিছক ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়; এটি আমাদের ভালোবাসার মানুষের সাফল্য, আমাদের স্মৃতিবিজড়িত সম্পর্কের আনন্দ এবং শ্রদ্ধার এক বিশেষ উপলক্ষ।

স্যার ও আপার প্রতি আমাদের এই ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিন বা অর্জনের জন্য নয়; এটি দীর্ঘদিনের স্নেহ, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মিক বন্ধনের স্বাভাবিক প্রকাশ। তাঁদের নতুন আনন্দে আনন্দিত হওয়া, তাঁদের সাফল্যে গর্ব অনুভব করা এবং তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করা—এসবই সেই সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পরিশেষে, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—তিনি যেন আমাদের শ্রদ্ধেয় স্যারকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ নেক হায়াত, অফুরন্ত কর্মশক্তি, প্রজ্ঞা ও কল্যাণময় জীবন দান করেন। আপনার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দিন এবং আপনার প্রতিটি সৎ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আপনার সম্মানিত স্ত্রী ও পরিবারের সবাইকে রাখুন সুখে, শান্তিতে ও নিরাপদে। তাঁদের এই মানবিক গুণাবলি, স্নেহ ও কল্যাণময় মনোভাবকে মহান আল্লাহ আরও সমৃদ্ধ করুন। আমিন।

অভিনন্দন, আমাদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক অধ্যাপক ড. মো. মোকতার আহমদ স্যার।

আপনার এই অর্জনে আমরা আনন্দিত, আপনার সাফল্যে আমরা গর্বিত, আর আপনার জন্য আমাদের দোয়া ও ভালোবাসা থাকবে আজীবন।

সময়ের সঙ্গে হয়তো অনেক কিছু বদলে যাবে, কিন্তু স্যারের সেই বাড়ি, আপার স্নেহমাখা আতিথেয়তা, ডাইনিং টেবিলের মধুর স্মৃতি আর তাঁদের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা আমাদের আত্মিক সম্পর্ক—হৃদয়ের পাতায় চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অফুরন্ত শুভকামনা—আপনার আগামীর প্রতিটি পদক্ষেপ হোক সাফল্য, সম্মান ও কল্যাণে সমুজ্জ্বল।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার