স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস, সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু


hudhudbd.com
বাংলা চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় সেফটি ইনচার্জসহ ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও ১০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ইয়ার্ডে আনা ‘এলএনজি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অনেকে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।
নিহতদের মধ্যে সীতাকুণ্ড ও ভাটিয়ারীর স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি পাবনা ও গাইবান্ধার শ্রমিকও রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
তবে দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডে কাজ চলছিল কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের স্বজনদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল এবং সকাল ৯টার দিকে জাহাজের ট্যাংকে লিকেজের খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, ইয়ার্ড বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অন্যান্য দিনের মতো সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত গেট খুলে দেওয়া হলে আরও কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইয়ার্ডে ভাঙচুর করেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উৎস শনাক্ত করার পাশাপাশি কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায় রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিপইয়ার্ড খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একটি সংস্থার দাবি, গত ২৫ বছরে কোনো একটি শিপইয়ার্ডে একসঙ্গে এত শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তাদের অভিযোগ, শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও বারবার নোটিশ ও পরিদর্শনের পরও যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার