উন্নয়নের দৌড়ে এগোলেও সাক্ষরতায় গতি কম, দুই বছর ধরে একই হারে বাংলাদেশ


hudhudbd.com
বাংলা চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের অবকাঠামো, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও যোগাযোগ খাতে দ্রুত পরিবর্তন এলেও মৌলিক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সেই অগ্রগতির গতি কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত দুই বছর ধরে দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশেই রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২১ সালেও তা অপরিবর্তিত ছিল। ২০২২ সালে হার কমে দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে। এরপর ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয় ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে এক শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২৫ সালেও একই হার বহাল থাকে।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ বলে জানান।
তিনি বলেন, সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশের বেশি হওয়া আশাব্যঞ্জক হলেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পিছিয়ে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাকে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির গতি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক দশকে সাক্ষরতার হার বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১২ দশমিক ৬ শতাংশ।
স্বাধীনতার পরও দেশে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৯৭১ সালে যেখানে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ১৯৭৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে। ১৯৯১ সালে এ হার পৌঁছায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়ালেই সাক্ষরতার হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, ঝরে পড়া কমানো এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কার্যকর ও ধারাবাহিক সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু করা জরুরি। শিক্ষা থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকেও এর আওতায় আনতে বছরজুড়ে কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বয়স্ক ও যুবকদের সাক্ষরতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির বদলে দেশে অনেক সময় প্রকল্পনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কার্যক্রমও থেমে যায়। ফলে চর্চার অভাবে অনেকে অর্জিত অক্ষরজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তার মতে, সাক্ষরতা অর্জন এক-দুই বছরের কোনো বিষয় নয়; একটি কর্মসূচি অন্তত পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে চালানো প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আগামী এক বছরে দেশের সাক্ষরতার হার কতটা বাড়বে, নাকি বর্তমান ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশেই আটকে থাকবে?

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার