বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকারকে আর সময় দেওয়া যায় না। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করা হবে।
১০ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মরণে এ আলোচনার আয়োজন করে ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য।
বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ধুলিসাৎ করেছে আওয়ামী লীগ, হরণ করেছে গণতন্ত্র। জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে ক্ষমতাসীনরা, এমন মন্তব্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে তা পুনর্বহালের হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল।
আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতারা কর্মসূচি সফল করতে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিএনপি নেতারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো একতরফা নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার করেন সভায়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্র-যুবক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম। লাখ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা সেদিন স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। পরে ১৯৯০ সালে একটি গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আজকে আবার সেই সময় এসেছে। আরো দৃঢ়তার সঙ্গে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে।
আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত হয়ে নেতা-কর্মীর উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নব্বইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্যরাখেন নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জহির উদ্দিন স্বপন, নাজিম উদ্দিন আলম, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার লুত্ফুর রহমান, সাইফুল আলম নীরব, আসাদুর রহমান খান, শহীদ উদ্দিন চেৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, নাজির উদ্দিন জেহাদের বড় ভাই কে এম বশির প্রমুখ।
এছাও বিএনপি নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর সরফত আলী সপু, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, হেলেন জেরিন খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আকরামুল হাসান, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সহাস্রাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে রাজউক এভিনিউ মোড়ে শহীদ জেহাদ স্মৃতি স্তম্ভে বিএনপি নেতারা পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।