টেকনাফে ৫৭ লাখ টাকা ডাকাতি: ব্যাংক থেকে বাস পর্যন্ত নজরদারিতে ছিলেন নারী!


hudhudbd.com
টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর থেকেই পিছু নেওয়া—শেষ পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট। টেকনাফে দিনদুপুরে আলোচিত বাস ডাকাতির তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন এক নারী।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাকাতির কয়েক দিন আগে থেকেই ওই নারী বিকাশের সেলসম্যানদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ঘটনার দিন ২ আগস্ট সেলসম্যানরা টেকনাফের একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করার সময়ও তিনি ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

টাকা উত্তোলনের পর সেলসম্যানরা যে বাসে ওঠেন, ওই নারী একটি অটোরিকশায় করে বাসটির পিছু নেন। পরে মোবাইল ফোনে তাদের অবস্থান ও গতিপথের তথ্য পাহাড়ে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয় বলে পুলিশের দাবি।

এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তরে ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় বাসটি থামিয়ে সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। এ সময় বিকাশের সেলসম্যানদের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ডাকাতদের গুলি ও মারধরে তিনজন আহত হন।

ভাইকে প্রধান করে গড়ে ওঠে ডাকাত চক্র

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফের লেদা এলাকায় ওই নারীর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র ডাকাত চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার ভাইকে চক্রটির প্রধান হিসেবে ব্যবহার করে রোহিঙ্গা যুবকদের নিয়ে দলটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

চক্রটির বিরুদ্ধে ডাকাতির পাশাপাশি একাধিক অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ওই নারীর ভাইও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালতে দুজনের স্বীকারোক্তি

গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে আয়াজ নামে এক রোহিঙ্গা ও লেদার হোসেন আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার বিকেলে টেকনাফের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুল হাসানের কাছে তারা জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে লেদা এলাকার আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। অপর একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তি নারী বলে পুলিশ নিশ্চিত করলেও তিনি ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী সেই নারী কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

উদ্ধার ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা

৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থেকে আরও তথ্য বেরিয়ে আসছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লুট করা টাকার একটি বড় অংশ স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে টাকা দেওয়ার কাজে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার আগেই একটি স্বর্ণের দোকান থেকে সুদসহ টাকা পরিশোধ করে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

দুই দফায় গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট প্রথম দফায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ আগস্ট রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানিয়েছেন, বাস ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে, টেকনাফ থানার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও রোববার রাত পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার