কক্সবাজারে জব্দ তিন বিলাসবহুল গাড়ি, আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ


hudhudbd.com
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬

কক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। যন্ত্রাংশ হিসেবে গাড়িগুলো আমদানি করে পরে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ হওয়া গাড়িগুলো হলো—টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক ও মাজদা এমএক্স–৫।
সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডে ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান শেষে গাড়ি তিনটি জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের নামে এগুলো দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে দেশে সেই যন্ত্রাংশ সংযোজন করে গাড়িগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে আমদানি ঘোষণায় কোনো অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অভিযানের সময় গাড়িগুলোর প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘সিনহা–৪’, ‘এস–৪–ফিয়াট’ ও ‘ইশাহ–৪’ লেখা দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে গাড়িগুলোর আমদানি ও মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং স্থানীয় সংযোজনের বৈধতা যাচাই করতে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ১৯১ ধারায় গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন—কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান, ঢাকার নকিবুল হাসান, গাজীপুরের শরাফাত রহমান এবং ঢাকার সিফিয়াত মাহমুদ।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না। গাড়িগুলোর মালিকানা, ব্যবহার, আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা যাচাই করছে সিআইআইডি।
তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়িগুলোর আমদানি বিল, ঘোষণাপত্র, পণ্য শনাক্তকরণ কোড, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের নথি, গাড়ির পরিচিতি এবং চেসিস নম্বর পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশগুলো কীভাবে দেশে এসেছে এবং কোথায় কীভাবে সেগুলো সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, তদন্তে ভুল ঘোষণা, অসত্য তথ্য প্রদান, শুল্ক-কর ফাঁকি, চোরাচালান কিংবা অন্য কোনো কাস্টমস অপরাধের প্রমাণ মিললে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্তের মতো আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার