অবৈধ সম্পর্কের জের > তরুণীর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপ ‘র এম.ডির বিরুদ্ধে মামলা


hudhudbd.com
বাংলা চ্যানেল
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২১

রাজধানীর গুলশান ২’র ১২০ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসরাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উদ্ধার করেছে পুলিশ । পরে রাত দেরটার ‍দিকে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বড় বোন নুসরাত জাহান । আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে মামলায় বিবাদী করা হয় ।

জানাযায় , লাখ টাকা ভাড়ার বিলাস বহুল ঐ ফ্ল্যাটে মোসরাত জাহান একাই থাকতেন ।

পুলিশের পক্ষথেকে বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপ’র এম.ডির সাথে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল । তিনি উক্ত ফ্ল্যাটে যাতায়ত করতেন ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হাসান ফিরোজ বিডি নিউজকে বলেন, মুনিরা ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এইচ এস সি পরিক্ষার্থী ছিলেন । তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহর পুরে । তিনি এখানে থেকে পড়াশুনা করতেন । বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা । মাস দুয়েক আগে লাখ টাকা ভাড়া নেয়া ওই ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন ।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয় দু’বছর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে পরিচয় হয়  মুনিয়ার । পরে তারা বিভিন্ন রেস্তোরায় দেখা করতেন ও মোবাইলে কথা বলতেন, এভাবেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ।

আসামী ২০১৯ সালে মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে । ২০২০ সালে আসামীর পরিবার তাদের প্রেমের সম্পর্কের খবর জানতে পারে এক নারীর মাধ্যমে । তখন আসামীর মা মুনিয়াকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে ।

আসামীও  মুনিয়াকে পরে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয় ।

মুনিয়ার বড় বোন ও মামলার বাদী নুসরাত জাহান এজহারে বলেন, গত ১ মার্চ তার এবং তার স্বামীর এনআইডি ব্যবহার করে ঢাকায় বাসাভাড়া নিতে ‍মুনিয়াকে প্ররোচিত করে আসামী আনভীর । পরে ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এবং ফুসলিয়ে মুনিয়াকে ঢাকায় নিয়ে আসেন আসামী আনভীর ।

এজহারে আরো উল্লেখ করা হয়, উক্ত ফ্ল্যাটের একটি রুমে আসামীর সঙ্গে মুনিয়ার স্বামী-স্ত্রীর মত ছবি তুলে বাঁধিয়ে রাখা হয়েছিল । আসামী মুনিয়াকে বিয়ে করে দেশের বাইরে সেটেল করার কথাও উল্লেখ করে বাদী এজহারে বলেন, আসামীর বাবা মা মুনিয়ার সাথে সম্পর্কের কথা জানতে পারলে আনভীরকে কিছু না করে মুনিয়াকে মেরে ফেলবে, এ কথা মুনিয়াকে আগে বলেছিল আসামী ।

১ মার্চ থেকে ঐ ফ্ল্যাটে মুনিয়াকে রেখে আসামীর সেখানে যাওয়া আসার কথাও উল্লেখ করা হয় ।

এজহারে আরো বলা হয় , গত শুক্রবার মুনিয়া মামলার বাদীকে (মুনিয়ার বড় বোন) ফোন করে বলেন , ফ্ল্য়াটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করায় এবং ছবি তোলায় আনভীর তাকে বকা দেয়, কারণ ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করেছেন এবং তার এক বান্ধবীকে সেই ছবি দেখিয়েছেন । ঐ বান্ধবী আনভীরের মাকে সব জানিয়ে দেবে বলে তার আশঙ্কা ।

পরে আনভীর মুনিয়াকে বলে তোমার আর এখানে থাকা যাবেনা ।  আমি ২৭ তারিখ দুবাই যাচ্ছি তুমিও চলে যাও কুমিল্লা । আম্মা জানতে পারলে মেরে ফেলবে তোমাকে ।

২৫ এপ্রিল মুনিয়া ফোনে কান্নাকাটি করে মামলার বাদীকে জানায়, আনভীর নাকি মুনিয়াকে বিয়ে করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে । মুনিয়া বলে সে আমাকে ধোকা দিয়েছে । যে কোন সময় আমার বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । সুতরাং তোমরা দ্রুত ঢাকায় চলে এসো ।

এজহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনারদিন, বাদী নুসরাত জাহান তার কাজিনদের সাথে নিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন । আসার পথে মুনিয়াকে বারবার কল করলে ও রিসিভ করেনি এবং ঢাকায় গিয়ে গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় বারবার নক করলেও খোলেনি দরজা । পরে ফ্ল্যাটের ইন্টারকমে ফোন করেও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকেন তারা । ঘরে ঢোকে দেখতে পায় শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যান’র সাথে ওড়না পেঁছানো অবস্থায় ঝুলছে বাদীনির বোন ।

পরে পুলিশ এসে ওড়না কেটে মুনিরার মৃতদেহ নামানো হয় । ঘটনাস্থলে আসামীর সঙ্গে মুনিরার ছবি, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা মুনিরার ডায়েরী এবং দু’টি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশ ।

আসামীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ২৬ এপ্রিল সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টার কোন এক সময় মুনিরা মারা যায় বলে এজহারে দাবী করা হয় ।

একটি অনলাইন মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় মুনিরার বড় বোন নুসরাত জাহান, আনভীর ও মুনিয়ার পরিচয়, তাদের প্রেম , গুলশানের বাসায় থাকা, সম্পর্কের কথা , সম্পর্ক নিয়ে আনভীরের পরিবারে কি হতে পারে এ নিয়ে আনভীরের আশঙ্কা , আনভীর বিদেশে তার বোনকে সেটেল করার পরিকল্পনা , সর্বশেষ মুনিয়াকে ঢাকা ছাড়ার কড়া হুকুম ও তাকে বিয়ে করবেনা বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয়ার কথাসহ মুনিয়ার বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কাও ফোন করে বড় বোনকে ঢাকায় যেতে বলা ইত্যাদির বিশদ বর্ননা দেন ।

তিনি উক্ত মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার সুষ্ট তদন্ত, বিচার, ও অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন ।

 

এ বিষয়ে সরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী আইন চলবে । কারো অপরাধ থেকে থাকলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে ।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার
Banglachannel বাংলা চ্যানেল

সম্পাদক : সাইফুল্লাহ মুসলিম
বিএ টাওয়ার ৫ম তলা, দেওয়ানহাট
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।

বাংলা চ্যানেল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত