কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসির সান্নিধ্যে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত


hudhudbd.com
মুসলিম আজাদ
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষকের সান্নিধ্যে, স্মৃতির অলিগলি ধরে ফিরে দেখা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি দিনগুলো।

 

কিছু সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং হৃদয়ের গভীরে জমিয়ে রাখে একরাশ ভালো লাগা, স্মৃতি আর মুগ্ধতা। আজ কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ স্যারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তেমনই আবেগঘন ও আনন্দময়।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্যারের সঙ্গে এটিই ছিল আমার প্রথম সাক্ষাৎ। দীর্ঘদিন পর প্রিয় স্যারের সান্নিধ্যে আসতে পেরে মনটা ভরে গেল। আমার সঙ্গে ছিলেন আইটি এক্সপার্ট রওশন আজিজ। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই আমাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, প্রাক্তন ছাত্রনেতা বদিউল আলম ভাই। তাঁর আন্তরিক আতিথেয়তায় আমরা উপাচার্য স্যারের কার্যালয়ে পৌঁছাই।

স্যারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে কখন যে কথার স্রোত স্মৃতির গভীরে প্রবেশ করল, তা যেন টেরই পেলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিষয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আধুনিক, মানসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে স্যার বিস্তারিত আলোচনা করেন।

স্যারের কথায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে অপার সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, সঠিক পরিকল্পনা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার সম্মানিত বিত্তশালী ও দানশীল ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি সেরা মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্যারের এই দূরদর্শী চিন্তা, ইতিবাচক মনোভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আমাদের আশাবাদী করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অগ্রযাত্রা কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়; বরং জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নৈতিকতা, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্যেই নিহিত। স্যারের ভাবনায় সেই অগ্রযাত্রারই প্রতিফলন খুঁজে পেলাম।

আলোচনার একপর্যায়ে ফিরে গেলাম আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবনের সোনালি দিনগুলোতে। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠল তৎকালীন ক্যাম্পাসের রাজনীতি, শিক্ষকতা ও হল প্রভোস্ট হিসেবে স্যারের দায়িত্ব পালন, সিন্ডিকেট সভার নানা বিষয় এবং কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্যার ও তাঁর পরিবারের নিবিড় সম্পর্কের বহু গল্প। উঠে এল স্যারের পরিবারের অনেক কথা, বাসার স্মৃতি, আমাদের প্রিয় আপার বাগানবিলাস এবং আমাদের জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য আনন্দময় মুহূর্ত।

সত্যিই, সময়ের পরিক্রমায় দায়িত্ব ও পদবির পরিবর্তন ঘটে, কর্মপরিধি বিস্তৃত হয়; কিন্তু হৃদয়ের সম্পর্ক আর স্মৃতির বন্ধন কখনো ম্লান হয় না। স্যারের সঙ্গে এই স্মৃতিচারণ যেন মুহূর্তের জন্য আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই চেনা ক্যাম্পাসে, যেখানে গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক, ভালোবাসা ও জীবনের বহু অমূল্য অধ্যায়।

দুপুরের খাবারের টেবিলেও ছিল আন্তরিকতার উষ্ণ পরশ। স্যারের সৌজন্যে আমাদের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ছিল নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। সেখানে সাক্ষাৎ হলো বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, আমার একান্ত প্রিয় দরবেশ আলী আরমান ভাইয়ের সঙ্গে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রমোশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা সব সময়ই আমাকে মুগ্ধ করে; এমন মানুষকে সহজে ভোলা যায় না।

এ ছাড়াও সাক্ষাৎ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) ও সাংবাদিক ইমাম খায়ের ভাই, সহকারী রেজিস্ট্রার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সেলিম জাহাঙ্গীর ভাইসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক আন্তরিক মানুষের সঙ্গে। তাঁদের প্রত্যেকের সৌজন্য, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আমাদের এই সফরকে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলেছে।

দিনের শেষভাগে স্যারের কার্যালয়ে জমে উঠেছিল চায়ের কাপে বিকেলের আড্ডা। গল্প, স্মৃতিচারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর আন্তরিক কথোপকথনে সময় কীভাবে গড়িয়ে গেল, বুঝতেই পারিনি।

সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছি বিদায়ের মুহূর্তে। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ স্যার নিজে তাঁর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখ পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে যে বিনয়, সৌজন্য ও মানবিকতার অবস্থান—স্যারের এই আচরণ যেন তারই এক অনুপম দৃষ্টান্ত। মানুষের প্রকৃত বড়ত্ব যে কেবল পদ-পদবিতে নয়, বরং তাঁর ব্যবহার ও হৃদয়ের উদারতায় প্রকাশ পায়, স্যারের এই সৌজন্য তা আবারও মনে করিয়ে দিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে স্যারসহ একটি গ্রুপ ছবিতে আমাদের এই স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামেরাপারসন। সে সময় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাক্ষাৎকে আরও আনন্দময় করে তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. বেলাল নুর আজিজী।

দিন শেষে মনে হলো, এটি নিছক একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে ঘিরে এক অনন্য মিলনমেলা।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অগ্রযাত্রা হোক আরও গতিশীল, সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। জ্ঞান, গবেষণা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতার আলোয় বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়ে উঠুক দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিয় মোকতার আহমেদ স্যারের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, অফুরন্ত শুভকামনা ও ভালোবাসা। তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এগিয়ে যাক সাফল্যের নতুন দিগন্তে।

কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই বদিউল আলম ভাই, দরবেশ আলী আরমান ভাই, ইমাম খায়ের ভাই, সেলিম জাহাঙ্গীর ভাই, ড. বেলাল নুর আজিজীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি। আপনাদের আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে, আর আজকের দিনটিকে করে তুলেছে স্মৃতির পাতায় যত্ন করে তুলে রাখার মতো এক সুন্দর অধ্যায়।

কিছু মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়, আর কিছু মুহূর্ত স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকে। আজকের এই সাক্ষাৎ তেমনই এক অনন্য স্মৃতি—যার রেশ রয়ে যাবে হৃদয়ের গভীরে।

শেয়ার করুন

Facebook Twitter Whatsapp

বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে বাংলা চ্যানেল
এ সম্পর্কিত আরও খবর

নিউজ কর্নার